লালমনিরহাটে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি শেলী খাতুনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা শাপলা। বহিষ্কৃত শেলী খাতুন লালমনিরহাট শহরের আলোরূপা এলাকার বাসিন্দা।
জেলা মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজী ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা শাপলার যৌথ স্বাক্ষরিত বহিষ্কারপত্রে বলা হয়েছে, শেলী খাতুন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থে দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন। তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদা দাবি এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
অ্যাডভোকেট আঞ্জুমান আরা শাপলা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মারধরের একটি ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করে শেলী খাতুনকে দল থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দলীয় পদ-পদবি ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে শেলী খাতুন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তিনি দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে কার্ডপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে দাবি করেন। এর মধ্যে অন্তত চারজন নারী তার দাবি করা টাকা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী আলেয়া বেওয়া (৫৫) অভিযোগ করে বলেন, দিনমজুরি করে কোনো রকমে তার সংসার চলে। ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে শেলী খাতুন প্রথমে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেন। পরে ১০ হাজার টাকা না দিলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না বলে জানান।
অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ৫ আগস্ট রাতে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী কয়েকজন নারী শেলী খাতুনকে ডেকে এনে জবাবদিহি করেন। এ সময় টাকা না দিলে কার্ড পাওয়া যাবে না—এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উপস্থিত নারীরা তাকে মারধর করেন বলে জানা গেছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেলী খাতুন। তিনি দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি কুচক্রী মহল ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তাকে ফাঁসিয়েছে এবং দল থেকে বহিষ্কার করিয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
প্রতিনিধি :